ছোটবেলা থেকেই আমার কাছে এই ইংরেজিরে সবচেয়ে বোরিং বিষয় লাগে। ফলাফল আমি বিষয়টাতে কাঁচা অনেক। আমাদের ইউনিতে দুটো ইংরেজির কোর্স করতে হয়। একটা ENG101 আরেকটা ENG102।
মজার ব্যাপার হল, ENG101 এর ক্লাস এ আমি ছিলাম খুব রেগুলার ছাত্র। রেগুলার বলতে উপস্থিতির রেগুলার। কারণ ছিল ENG101 এর ম্যাম। ম্যাম অনেক সুইট আর হ্যান্ডসাম/স্মারট/সেক্সি ছিলেন। উনি ক্লাস এ ঢুকলেই মিষ্টি একটা পারফিউম এর গন্ধে পুরা ক্লাস ভরে যেত। আমি ওই পারফিউম এর জন্যই রেগুলার ছিলাম 😛 । ENG101 এর কোর্সটা ম্যাম এর দিকে তাকায় তাকায়ই পার করলাম।
2nd সেমিতে ENG102 কোর্সটা নিলাম। এই কোর্স এর ম্যাম এতোই বোরিং ছিলেন যে আমারে ক্লাস এ খুঁজা পাওয়া যাইতো না। গেলেও লাস্টের দিকে বইসা থাকতাম। খাতার মধ্যে আঁকিবুঁকি করতাম। ম্যাম কি পড়াইতো ওইটা ম্যাম আর কিছু আঁতেল জানতো। ভংচং এক্সাম আর ক্লাস করতে লাগলাম। শেষের দিকে ম্যাম বললেন যে প্রেজেন্টেশন নিবেন। কবে নিবেন ডেট পরে জানাবেন বলসিলেন। As usual আমি ক্লাস এ অনুপস্থিত। তাই details কিছুই জানি না। তানজিম দয়া করে আমারে ওর গ্রুপ এ নিসে। আমার অজান্তেই। আমাদের গ্রুপ এ ছিল আমি, সুমন, তানজিম, এরিন আর রিচি। এরিন বাদে সবগুলাই হাই ক্লাস ফাঁকিবাজ। তানজিম আর এরিন বার বার ফেবুতে, ফোন এ knock করতো টপিক কোনটা নিবি? কি করবি? এখানে বলে নেয়া ভাল, আমি খুব পরিশ্রমী অলস। মানে আলসেমি করতে আমি অনেক পরিশ্রম করতে পারি। ওদের knock এ ক্যা কু করতে লাগলাম। ওরা বুঝলো আমাকে দিয়ে হবে না। 😛 গুতানো অফ করে দিল।
অমিত এর বাসা আমাদের ইউনি এলাকাতেই। আমরা প্রায়ই যেতাম। একদিন গিয়ে খেয়াল করসিলাম ওর নিউ একজোড়া জুতা ও এখনো খুলেই নাই, প্যাকেট করে সাজায় রাখসে। 😉
এর কিছুদিন পর ইউনি গিয়ে শুনি সেদিনই নাকি প্রেজেন্টেশন। আমার মাথায় হাত। নিচে তাকায় দেখি পায়ে স্যান্ডেল পড়া। ভাগ্য ভাল প্যান্ট আর সার্টটা কিঞ্চিত ফর্মাল টাইপ ছিল। দিলাম অমিত রে ফোন। ওই তোর নতুন জুতা আমার আজকে লাগবো। অমিত কইলো ওকে দোস্ত আয়। আমার খারাপই লাগতেসিল, বেচারার নতুন জুতা আমিই বিসমিল্লাহ্ বলতেসি। ওর বাসায় গিয়া শার্ট ইন করে মুজা ছাড়া শু পড়ে গেলাম প্রেজেন্টেশন দিতে। পড়ে জানলাম আমার পার্ট ছিল Conclusion মানে লাস্টের দিকের অংশ আর আমাদের টপিক ছিল Dhaka শহরের পরিবেশ না কি জানি একটা আমার মনে নাই। আমাদের প্রেজেন্টেশন এর সিস্টেম হল যে যার প্রেজেন্টেশন এর পার্ট তথা স্লাইড তৈরি করে তারপর স্বচ্ছ A4 সাইজের প্ল্যাস্টিক টাইপ এর মধ্যে ফটোকপি করে আনতে হয় প্রোজেক্টরের জন্য। Transparent Photocopy বলে এটাকে। ওরা সবাই অদের পার্ট করসে মানে আমি বাদে। 8-|
অন্য গ্রুপ যখন প্রেজেন্টেশন দিতেসিল, আমার মাথায় তখন কোন টেনশনই নাই। আমার গ্রুপ মেম্বাররা কড়া চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছিল, তানজিম তো পারলে আমারে খাইয়াই ফেলে। আমি খালি জানি টপিক Dhaka শহরের পরিবেশ না এই ধরনের কিছু একটা। ধুম করে মাথায় আইডিয়া আসলো। খাতা থেকে একটা পেজ ছিঁড়লাম। তারপর আমি আবার রিলাক্স মুড এ চলে গেলাম। মনে মনে নিজেরে বাহবা দিলাম। বাহ একদম আনকমন হবে ব্যাপারটা। 😄
আমাদের সময় আসলো। যথারীতি বুকে ধুক ধুক শুরু হইলো। সবাই সবারটা বলতেসে। প্রজেক্টরে Transparent Photocopy এর স্লাইড রেখে বলতেসে। কেউই খেয়াল করে নাই আমার হাতে খালি একটা সাদা কাগজ। এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আমি বীরের দর্পে অত্যন্ত ভাবের সহিত সামনে আগালাম। প্রজেক্টরে রাখলাম সাদা কাগজ, আমার ভাব দেখে মনে হইতেসিল আমি পৃথিবী ধ্বংস করার জন্য শিঙ্গায় ফু দিতে যাইতেসি। প্রোজেক্টরে সাদা কাগজ রেখেই যেটা করলাম ম্যাম এর দিকে তাকালাম। উফস। তার চেহারাটা দেখার মত হইসিল, ভাব দেইখা মনে হইলো আমি উনারে প্রোপস করসি। -_- আফসোস আমার কাছে ক্যামেরা ছিল না নইলে তখনি একটা পিক তুলতাম। আর বাকি পোলাপান সব হাঁ।
ভাব নিয়া বলতে গিয়া শুরুতেই খাইলাম ধাক্কা। মানে তোতলামি শুরু হইল। না হয়ার কারণ নাই, জীবনের 1st প্রেজেন্টেশন বলে কথা। তাও বললাম।
“My friend said about the bla bla part(পার্ট এর নাম মনে নাই)। Now we can say, If we keep our mind like this WHITE PAPER I mean WHITE, we can keep our beloved Dhaka City bla bla bla. Because bla bla bla.”
শেষ কইরাই তাকাইলাম ম্যাম এর দিকে, চেহারা দেইখা মনে হইলো, আল্লাহ্রে আজকে জান লইয়া ক্লাস থেকে বাইর হইতে দিবো তো??? পোলাপান কতগুলার মুখে হাসি। মজা পাইলাম, যাই করসি, at-least কয়েকজন রে কিছু বিনোদন তো দিসি 😉
এই ছিল আমার জীবনের প্রথম প্রেজেন্টেশন। আফসোস ম্যাম আমার ট্যালেন্টটা বুঝলো না। :’( আমি অমিত এর প্রতি কৃতজ্ঞ। আর কৃতজ্ঞ গ্রুপ লিডার তানজিম এর কাসে। ভাবসিলাম বাইর হইয়া লাত্থি উস্টা দিবো কিছু। দোস্ত আমার কিছুই বলে নাই ^_^
Originally written on: December 13, 2012 at 7:41pm (opens new window)