ছোটবেলা থেকে আমাদের বাসায় মেহমান এর অভাব থাকতো না। কেউ বিদেশ গেলে ১৪গুস্টিসহ বাসায় এসে থাকতো। ঢাকায় বেড়াতে আসলে আমাদের বাসায় থাকতো। ঢাকায় কাজ থাকলেও আমাদের বাসায় আসত। বাবা ডিফেন্স এ সরকারী চাকরিজীবী হওয়ার সুবাদে লোকজন এসে তার কাছে সুযোগ খুজতো। এমন ও হইসে মেহমানদের যায়গা দিতে গিয়ে আমরা নিচে হাসিমুখে বিছানা করে ঘুমাইসি। আমার মা তাদের জন্য চুলার আগুনে রান্না করতে করতে চালের ড্রাম খালি করত।

সরকার বলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। আত্মীয় স্বজনদের কারও এখন তেমন সাপোর্ট লাগে না। বাবার এখন চাকরী নেই। তার কাছে তেমন সুযোগও নেই। মা যাবার পর লোকটা একা হয়ে গেল। হাতেগোনা দুই একজন ছাড়া কেউ এসে তাকে দেখে যায় না। তার ও এসব দরকার হয় না। যারা বিদেশ ফেরত আসে, কিছু দিতে হবে এই ভয়ে বাসায় এসে দেখা না করে সরাসরি বাড়ি চলে যায় উনারা। আমি কোনদিন কেয়ার করি নাই এগুলা। দুই একজন কাজিন, ভাগ্নি বাদে কেউ আমার খোঁজ নেয় না। আমারো এত সময় নাই। এই গট মাই ওউন শিট টু ডিল উইথ। এই চিন্তাগুলা আজকে হঠাত মাথায় কিলবিল করতেসিল কারণ আজকে বিশেষ দরকার এ যখন ফোনের কন্টাক্টলিস্ট ঘাটতেসিলাম ফোন করার মত কারও নাম্বার পেলাম না।

বাবা প্রায় বলে কে কি অবস্থায় আসে তুই কোন খবর রাখিস না। দিন দুনিয়ার কোন খবর নাই তোর। আকাইম্মা আমি একটা। আমি মনে মনে হাসি। তোমার মত তো এত বোকা না আমি। এরা যে যার ধান্দা করবে, ধান্দার পরে কেটে পড়বে। আমি যতই বেকুব হই, ধান্দাবাজ মানুষ আমি চিনি। নোয়াখাইল্লা ব্লাড আমার।

আমাকে মানুষ আন্ডারএস্টিমেট করে। ভদ্রতার কারণে চুপ থাকি বলে সামনে এসে যা খুশী ফালতু কথা বলা শুরু করে। আবার কাউকে কিছু বললে পাত্তাই দেয় না। জীবনে আমি কতবার "I TOLD YOU SO" বলসি আর মিটিমিট হাসছি সেই হিসাব আমি ভুলে গেছি।

ব্লগটা শুরু করেছিলাম টেক পড়াশুনা নিয়ে লিখবো বলে। সেটা দিন দিন ব্যক্তিগত হতাশার গল্পে পরিণত হচ্ছে। মন খুলে কথা বলার যে মানুষ নাই। জীবনের সময়টাই এমন। জানি আমার অনেক রিলেটিভ এটা দেখে মান অভিমান করবেন। আমারও মাঝে মাঝে করতে ইচ্ছে করে যে। 😃